অসাধু ব্যবসায়ী চক্রগুলোর হাত থেকে মা শিশু পরিবারকে রক্ষা করতে হবে
সামসাদ মোনায়েম উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ
কল্যাণপুর ঢাকা

প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি
বর্তমানে অবাধ বাণিজ্যের যুগে পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা অনেক বেড়েছে
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটা সময়োপযোগী ভূমিকা রাখতে পারছে তা ভাবার সময় এসেছে
স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন ছিল—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়
এই দর্শনের আবেদন বর্তমান সময়ে এসে একটুও কমেনি
আমাদের মনে রাখতে হবে কূটনীতিতে চিরবন্ধু ও চিরশত্রু বলে কিছু নেই
নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই পররাষ্ট্রনীতির মূল ক্ষেত্র হওয়া উচিত
কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা গেছে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতিরও যেমন পরিবর্তন হয় তেমনি আমাদের দেশের বন্ধুদেশও পরিবর্তিত হয়
যেমন—বর্তমান সরকার ভারতকে যতটা গুরুত্ব দেয় বর্তমান বিরোধী দলের ক্ষেত্রে ভারত ততটা গুরুত্ব পায় না
অর্থাৎ দেশের স্বার্থ বিবেচনা না করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশকে গুরুত্ব দেয় যা কখনোই কাম্য নয়
ভুলে গেলে চলবে না যে ভারত ভৌগোলিকভাবে তিন দিক থেকে আমাদের ঘিরে রেখেছে
সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় ভারতের গুরুত্ব সর্বাধিক
তবে মনে রাখতে হবে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ ভারতের কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নিতে হবে
কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটা সফল হচ্ছে বা হচ্ছে না তা লক্ষ করার বিষয়
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রানজিট চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত বেশি লাভবান হবে
এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে আমাদের যে বাণিজ্য-ঘাটতি রয়েছে তাও কমার সম্ভাবনা কম
এ ছাড়া উল্লেখ করা যায় বিএসএফের গুলিতে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশিদের প্রাণ দিতে হয় কিন্তু এর সমাধানও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করতে পারেনি
সমুদ্রসীমা নিয়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আমাদের সমস্যাও অমীমাংসিত
ভারতের সঙ্গে ছিটমহল নিয়ে সমস্যা নিষ্পত্তিহীন তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যাও এগোয়নি
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কমে গেছে যা আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিচক্ষণতার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিতে হয়
বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে সুফল বেশি হতে পারে
বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বদের কাজে লাগাতে হবে
সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে
এম সিজার মোনায়েমুল ইসলাম নৃবিজ্ঞান বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রাথমিকে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ
২৩ আগস্ট সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দেশের সব বেসরকারি ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের সুপারিশ করেছে
সারা দেশে ২০ হাজার খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট মেটাতে পুল গঠন করবে
প্রতি উপজেলা বা থানায় গড়ে ৪০ জন করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে
এই সহকারী শিক্ষকেরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন
তাঁরা স্থায়ী চাকরি দাবি করতে পারবেন না
প্রধানমন্ত্রী এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন
তিন হাজার টাকা বেতন হলে পড়ালেখাও তিন হাজার টাকার মানে হবে
জেনে-শুনে শিক্ষকেরা এ পেশায় এসেছেন
অথচ এসব স্কুলে শিক্ষকেরা প্রায়ই গরহাজির থাকেন
পেটে খেলে পিঠে সয়
চাকরি ও বেতনের নিশ্চয়তা পেলে আমাদের শিক্ষকেরা দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবেন
শিক্ষকেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে নিদারুণ অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করলে পড়াবেন কী তাই জাতীয়করণ করা হলেই শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিশ্চিত হবে না
পুলপ্রথার অপব্যবহার হওয়ারও সুযোগ আছে
অনেক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষকের পক্ষে তাঁর কোনো আত্মীয় ক্লাস করে থাকেন
এটি নিয়মসিদ্ধ নয় তবুও এই দৃষ্টান্ত রয়েছে
পুলপ্রথা চালু হলে যাঁরা প্রক্সির মাধমে মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন তাঁরা একটা মওকা পেয়ে যাবেন
কারণ পুলপ্রথার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকের অভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানে যাতে বিঘ্ন না ঘটে
তখন এক পদে দুজনকে বেতন দিতে হবে
যে স্কুলে শিক্ষক নেই সেখানে পড়ালেখা হয় না—এটা মেনে নেওয়া যায়
কিন্তু যে স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন সেখানে পড়ালেখা হয় না—এটা মেনে নেওয়া যায় না
একজন ছাত্র ফাঁকি দিলে সে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতির শিকার হয় একজন শিক্ষক ফাঁকি দিলে পুরো স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি হয়
এ কারণেই শিক্ষকদের মানসম্মান কমে গেছে
ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের কারণে পরিচ্ছন্ন দায়িত্বপরায়ণ শিক্ষকেরা সমালোচনার শিকার হচ্ছেন
জাতীয়করণ করা হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না
শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে
আবদুল মকিম চৌধুরী নয়াটোলা ঢাকা

একটি প্রাচীন জমিদার বাড়ি
আশির দশকে নির্মিত জনপ্রিয় একটি চলচ্চিত্র অশিক্ষিত
খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক সত্য সাহা ছবিটি প্রযোজনা করেন
অগণিত দর্শককে মুগ্ধ করেছিল ছবিটি
ওই ছবিতে এক নান্দনিক জমিদার বাড়ির দৃশ্য ধারণ করা হয়
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারীর ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের নন্দীরহাটের পশ্চিমে দুই গম্বুজবিশিষ্ট দোতলা বাড়িটির অবস্থান
বাড়িটির কারুকাজখচিত দেয়াল স্তম্ভ কার্নিশ ভেঙে পড়েছে
স্তম্ভগুলো থেকে খসে পড়ছে চুন-সুরকি
বিবর্ণ হয়ে গেছে গম্বুজ ও দেয়ালের রং
মরচে ধরেছে দরজা-জানালার লোহার রডগুলোতে
অশিক্ষিত ছবিতে পুলিশের চলচ্চিত্রে অভিনয়কারী স্থানীয় অনিলবরণ রাহা এই বাড়ির স্মৃতিচারণা করে বললেন সংগীত পরিচালক সত্য সাহার বাবা প্রসন্ন কুমার সাহা বাড়িটি নির্মাণ করেন ১৮৯০ সালে
তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের প্রথিতযশা জমিদার
বছরজুড়ে নানা পূজা-পার্বণে বিপুল লোকের সমাগম হতো এই বাড়িতে
স্থানীয়রা জানান জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহার সময় এই বাড়িতে জমিজমার কর দিতে আসতেন এলাকার শত শত কৃষক
বছরজুড়ে চলত দোলপূজা ঝুলনযাত্রা ও রাজপুণ্যাহসহ নানা বর্ণিল উৎসব
এক বেলায় রান্না হতো তিন-চার শ লোকের খাবার
হালচাষের জন্য ১০-১২ জোড়া গরু
এই বাড়িতে কর্মচারী ছিল শতাধিক
ছিল সেরেস্তা ঘর ধানের গোলা ও নাচঘর
বর্তমানে মূল ভিটেবাড়ি ও পুকুরের পাঁচ একর জমি ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছু নেই
এই বাড়িতে এখন বাস করছেন জমিদারি পরিবারের ১২ জন সদস্য
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় জরাজীর্ণ স্তম্ভ
দেয়াল ছাদ কার্নিশ দেখলে মনে হবে এখনই যেন ভেঙে পড়বে
দোতলা বাড়িটির নিচে মাঝামাঝি স্থানে লোহার বিশাল ফটক
এটিই মূল প্রবেশপথ
বাড়িতে ঢোকার পর হাতের বাঁ পাশে সিঁড়ি
এরপর বাড়ির উঠোন
দক্ষিণ পাশে ঝোপঝাড়ে ভরা সেরেস্তা ঘর
উত্তর পাশে একটি মন্দির
উঠোনের পূর্বপাশে মূলঘর
বাইরের দিকটা অবিকল থাকলেও দরজা জানালা ও কক্ষগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে
মূলঘরের পেছনে একটি এবং বাড়ির সামনে একটি পুকুর
এর দক্ষিণ পাশে নাচঘর
পুকুরঘাটটি এখনো বিলুপ্তপ্রায়
কালের স্মারক হিসেবে বাড়িটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে ভালো হয়
মোহাম্মদ রফিক চট্টগ্রাম

চিকিৎসক নিয়োগ
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটা সংরক্ষণ নীতিমালার আলোকে অ্যাডহক ভিত্তিতে তিন সহস্রাধিক চিকিৎসক সহকারী সার্জন নিয়োগ করা হয় যাতে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় ৫৮২টি অপূরণকৃত শূন্য পদ সংরক্ষণ করা হয় এবং এর প্রায় এক সপ্তাহ পর ২৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়
তাতে প্রাধিকার কোটার বিপরীতে অপূরণকৃত সংরক্ষিত পদের সংখ্যা ৮১৩
এ নীতিমালার আলোকে ২৮তম বিসিএসে চিকিৎসক সহকারী সার্জন পদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপূরণকৃত পদ সংরক্ষণ করা হয়েছে
